নয়া বিতর্কের জন্ম দিন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।
টক অব দ্য কান্ট্রি এখন জামায়াত। দলটি কি ইসলামী ধারার রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে? দলটির লোগো থেকে ‘আল্লাহ’ ও কোরআনের আয়াত ‘আকিমুদ দ্বীন’ শব্দ বাদ দেয়ায় দলটি নিয়ে এমন প্রশ্ন ও বিতর্কের ঝড় ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অ্যাক্টিভিস্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার নেটিজেন বিতর্ক করছেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক বৈঠকে পেছনে রাখা দলীয় পতাকা এবং দেয়ালে লাগানো নতুন লোগো ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ছবি প্রকাশের পর থেকেই সর্বত্রই আলোচনার ঝড় শুরু হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে ‘মৌলবাদী দল’ ট্যাগ ঘোচাতে জামায়াত কি সেক্যুলার হওয়ার কৌশল নিচ্ছে? কেউ লিখেছেন, দলটির পুরোনো লোগোর মধ্যে ছিল ঐতিহ্য, ভাবগাম্ভীর্য ও ইসলামী আদর্শের আবহ। আগের লোগোটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতীক ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করতেই কি দলটি ‘আল্লাহর আইন, সৎ লোকের শাসন’ স্লোগান থেকে সরে এসে আসছে জামায়াত? কেউ লিখেছেন, ডাকসু ও জাকসু নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় সেই কৌশল জাতীয় নির্বাচনে অ্যাপ্লাই করতেই লোগোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে? কেউ লিখেছেন, বিএনপিকে ঠেকাতে দেশের ইসলামী ধারার দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচনী জোট গড়তে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষোভ থেকেই ইসলামী রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার কৌশল নিচ্ছে জামায়াত? তাহলে এতদিন ইসলামের নামে রাজনীতি করার অপরাধে (!) জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। জাসদ থেকে পদত্যাগ করে মেজর (অব.) জলিল জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছিলেন ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে জাসদ গঠন করা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভুল’ জামায়াত কি তেমন কিছু বলবে? কেউ লিখেছেন, কলকাতার পত্রিকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াত বিএনপিকে দিল্লিপন্থি হিসেবে ট্যাগ দিয়েছিল।
এখন সেই ভারতের অনুকম্পা পেতে নিজেদের দলের লোগো থেকে ‘আল্লাহ’ শব্দই বাদ দিচ্ছে। কেউ আবার গত এক বছর ধরে জামায়াতের আমিরের বক্তব্য ‘ফ্যাসিস্ট শব্দ বারবার বলতে ভালো লাগে না’, ‘আওয়ামী লীগকে মাফ করে দিয়েছি’, ‘জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা নিজেদের পছন্দের পোশাক পরে চলাফেরা করতে পারবে’ ‘আমরা (জামায়াত) ভারত বিরোধী নই’সহ বিভিন্ন বক্তব্য জুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে জামায়াত ক্ষমতায় যাবে’-এমন নিশ্চয়তা দেয়া হলে দলটি ইসলামী রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে কমিউনিস্ট রাজনীতি করতেও কসুর করবে না।’ দলটির সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান (পাবনার সাঁথিয়া আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘লোগো থেকে ইকামতে দ্বীনের কথা সরিয়ে ফেলাতে কোনো সমস্যা নেই, তবে ইমাততে দ্বীন কথাটি থাকা অবস্থায় সেটি সরিয়ে ফেলা অবশ্যই ভিন্ন কিছু প্রকাশ পায়। কেননা, এখানে প্রশ্ন থেকে যায় যে তারা ইকামতে দ্বীনের পথ থেকে সরে গেছে কিনা। যদি সরে যায় তাহলে তারা লোগো থেকে এই কথাটি সরিয়ে ফেলাতে কোনো আপত্তি নেই। তবে সেই সাথে দলের নামের থেকে ইসলাম শব্দটিও কিন্তু বাদ দেয়া প্রয়োজন। সবচেয়ে ভালো হয় দলের নাম সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করে ইসলাম নাম ব্যবহার না ভিন্ন একটি নাম যদি রাখা হয়। এতে অন্তত একটি দল দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই পাবে।’ দলের লোগো থেকে ‘আল্লাহ শব্দ বাদ দেয়ার নেপথ্যে হিন্দুত্ববাদী ভারতের জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চয়তা থাকতে পারে’-এমন ইঙ্গিত করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবিরের সাবেক এক নেতা বলেছেন, ‘ডাকসু আর জাকসু নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন এক নয়। কারো ইন্ধনে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া আত্মঘাতী হবে। গুটিকয়েক সেক্যুলার লোকের মৌলবাদী ট্যাগ থেকে বাঁচাতে বৃহৎ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মানসিকতার কথা ভুলে গিয়ে এমন সিদ্ধান্ত ‘জামায়াতের রাজনৈতিক মুরুব্বি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ভালোভাবে নেবে না।’ অবশ্য কিছু সময় পরে দেখা যায়, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে প্রকাশিত আলোচিত ‘নতুন লোগো’ সরিয়ে নিয়েছে। তবে দলটির বট বাহিনী লোগো থেকে ‘আল্লাহ’ শব্দ বাদ দেয়ার নানা যুক্তি তুলে ধরে ইউটিউবে প্রচারণা চালাচ্ছে।
আকিদার কারণে দেশের ইসলামী ধারার বেশির ভাগ দল জামায়াতকে প্রকৃত ইসলামী দল হিসেবে মনে না করলেও বাংলাদেশ জামায়াত দেশের অন্যতম প্রাচীন ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত। পাকিস্তানের মাওলানা আবু আ’লা মওদূদীর চিন্তা-চেতনায় পরিচালিত দলটি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় লোগোতে নির্দিষ্ট কিছু ধর্মীয় প্রতীক ও লেখা ব্যবহার করছে। এখন দলটির লোগো পরিবর্তনের একটি উদ্যোগ সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক বৈঠককে দলীয় লোগো পরিবর্তন ধরা পড়ে।
প্রকাশিত নতুন লোগোতে দেখা যায় সবুজ পতাকার মাঝে একটি কিতাবের (বই) ওপর উদীয়মান সূর্য অঙ্কিত। বইয়ের ওপর দাঁড়ানো সূর্যের ওপরে রয়েছে একটি কলম, যা দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লার দ- হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কিতাবের দুই প্রান্ত থেকে একটি অর্ধ পরাবৃত্ত তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিকভাবে লোগোটিকে বৃত্তাকার রূপ দিয়েছে। এই পরিবর্তিত লোগোতে আগের লেগোতে ‘আল্লাহ’ শব্দ বা কোরআনের আয়াত ‘আকিমুদ দ্বীন’ বাদ দেয়া হয়েছে। এটিই মূলত সবচেয়ে বড় সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। লোগোটি প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া-বিতর্ক শুরু হয়। অনেকেই লিখছেন, এই পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর কাছে আস্থা অর্জনের কৌশল। যাতে তারা জামায়াতকে সেক্যুলার ভাবধারার কাছাকাছি রাজনৈতিক দল হিসেবে ক্ষমতায় যেতে সহায়তা করে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জামায়াতকে ‘মর্ডারেট ইসলামী দল’ হিসেবে সার্টিফিকেট দিয়েছিল।
জামায়াতের লোগো পরিবর্তন প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান নিজের ইউটিউব চ্যানেল জাহেদস টেইক-এ বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী সম্ভবত তাদের দলীয় লোগো পাল্টাচ্ছে। নতুন লোগো আগের লোগোর সঙ্গে খুব বড় পার্থক্য রয়েছে। জামায়াতের পুরোনো লোগোতে ছিল গম্বুজ, ‘আল্লাহ’ লেখাসহ ‘দ্বীন কায়েম করো’-এসব স্পষ্টভাবে দেখা যেত। নতুন লোগোর মধ্যে কোনোটিই দেখা যাচ্ছে না। কিছু সংবাদে বলা হয়েছে, কলমের দিকে আল্লাহু লেখা থাকতে পারে; কিন্তু প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। জামায়াত কি তার নিজের রাজনীতির জন্য লজ্জিত? কেউ কি তাদের এমন করছে, যার জন্য তারা চাপে পড়ছে। তাই কৌশল হিসেবে এটি সরিয়ে রাখছে। আমি প্রায় একটি কথা বলি, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির কৌশলের মতো আগামী নির্বাচন নিয়ে জামায়াত কৌশল করতে পারে। তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াত দাবি করে, তাদের মতবাদ মানব রচিত নয়। এটি ডিভাইন। এটি সরাসরি স্রষ্টা থেকে এসেছে। এটি সত্য। কোরআন-সুন্নাহকে ভিত্তি করে, হাদিসকে ভিত্তি করেই তারা তাদের শাসন কায়েম করবে বলে। সুতরাং আল্লাহর কাছ থেকে আসা আইন বিধান হঠাৎ করে ভেঙে ফেললাম, কৌশল করলাম, এই জিনিসগুলো করা যায় না। সুতরাং আর সব দলের গঠনতন্ত্র এবং তার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য পাল্টে ফেলার সঙ্গে জামায়াতের পাল্টে ফেলার মধ্যে দুস্তর ব্যবধান আছে।’
কয়েক দিন আগে একাধিক সমাবেশে হেফাজতের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, ‘জামায়াত কোনো ইসলামী দল নয়’। আরো কয়েকজন ইসলামী চিন্তাবিদ জামায়াতকে ইসলামী দল মনে করেন না। তাদের বক্তব্য জামায়াতে ইসলাম ‘প্রকৃত ইসলাম’ নয়। মূলত জামায়াত সালাফি মতবাদে বিশ্বাসী রাজনৈতিক সংগঠন। সালাফি মতবাদের সউদী আরব ভার্সন হচ্ছে ওয়াহাবি, পাকিস্তানের ভার্সন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান, ভারতে জামায়াতে ইসলামী হিন্দ, বাংলাদেশে জামায়াত। ১৯৪২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি বহু বিতর্কিত কা- করছে। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় ১৯৭২ সালে জামায়াত নিষিদ্ধ করা হয়। অতঃপর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর ১৯৭৯ সালে ঢাকার হোটেল ইডেনে আয়োজিত এক রুকন সম্মেলনের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ প্রকাশ্যে রাজনীতিতে পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে। অতঃপর ২০০৮ সালে ফখরুদ্দিন-মঈন ইউ আহমদের শাসনামলে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের সময় দলের নাম ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ পরিবর্তন করে নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’। সূত্রের দাবি, ২০১৬ সালে দলটির লোগো পরিবর্তন করেছিল দলটি। আগের লোগোতে গম্ভুজের মধ্যে আল্লাহর শব্দের মাঝে দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লা এবং নিচে লেখা ছিল আকিমুদ দ্বীন (দ্বীন কায়েম করো)। ওই বছরের ৭ জুন বাংলাদেশের পতাকার আদলে লাল-সবুজ আয়তক্ষেত্রে, ওপরে লাল রঙে বাংলাদেশ এবং নিচে সবুজ রঙে লেখা ছিল জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের যারা রাজনীতি করেছেন তাদের বেশির ভাগই উচ্চ শিক্ষিত এবং মেধাবী মানুষ ছিলেন। প্রফেসর গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিযামী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের নেতারাও প্রচুর বইপত্র লিখেছেন। ওই সব বইয়ের মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে ‘আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ইসলামী রাজনীতির সুবাদে দেশের মসজিদ-মাদরাসা দখল করেছে দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী। এখন সেখান থেকে সরে আসছে কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে।
অবশ্য লোগোতে পরিবর্তন আনায় জামায়াতের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে গভীর অসন্তোষের তথ্য মিলছে। দলটির একাধিক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘জামায়াতকে মানুষ ইসলামী দল হিসেবেই চেনে। অথচ নতুন লোগোতে ‘আল্লাহ’ বা ‘আকিমুদ দ্বীন’ নেই। এতে অনেকেই বিভ্রান্ত হবে, আবার অনেক কর্মী হতাশ হবে। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা জামায়াতকে ইন্ডিয়ার দালাল হিসেবে ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করবে।’ বাংলাদেশের আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান বলেছেন, ‘জামায়াত এখন ভারতের পরামর্শে প্রগতিশীল সাজতে লোগো থেকে ‘আল্লাহ’ ও ‘আকিমুদ দ্বীন’ শব্দ বাদ দিয়েছে। ডাকসু নির্বাচনে ইসলাম শব্দের ব্যবহার না করায় শিবির জিতেছে। এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ভারতের সহায়তায় বিজয়ী হতেই ইসলাম থেকে সরে আসার কৌশল নিয়েছে। দলটির নেতা একদিকে বাংলাদেশ আক্রমণের জন্য ভারতকে উসকে দিচ্ছে; বিএনপিকে ঠেকাতে ইসলামের নামে মওদূদীবাদ চেতনায় দেশের ইসলামী দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে। অতঃপর মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে নিয়ে বিএনপির নামের সঙ্গে ভারতীয় চেতনা ট্যাগ দেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে এখন নিজেরাই দিল্লিকে খুশি করতে দলের লোগো থেকে ইসলামী ভাবধারা সরিয়ে ফেলছে। ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও ক্ষমতার লোভে দলটির পারে না এমন কোনো কাজ নেই।
এদিকে গতকাল সোমবার জামায়াতের পেইজে প্রকাশিত দলটির আমিরের সঙ্গে ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কারমা হামু দর্জির সাক্ষাতের ছবিতে নতুন লোগো দেখা যায়নি। ছবিতে লোগোর স্থানে ফাঁকা জায়গা লক্ষ করা গেছে। যদিও সোনালি অক্ষরে লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ অংশটি অপরিবর্তিত ছিল। এর আগে গত রোববার জামায়াত নেতারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, দলের লোগো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকটি নতুন লোগো পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং শিগগিরই একটি লোগো চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমে জানানো হবে। গণমাধ্যমকর্মীরা লোগো পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছিলেন, অনেক দিন ধরে একই লোগো ও পতাকা রয়েছে। আগের লোগোটি যখন করা হয়েছিল, তখন নান্দনিক ডিজাইনের তেমন সুযোগ ছিল না। নতুন প্রেক্ষাপটে এগুলো পরিবর্তনের জন্য দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়েছে।